Dear Ex

গল্প নং: (০৯)
নামঃ ডিয়ার এক্স।
-
'তোমার গার্লফ্রেন্ড কি জানে যে তুমি সিঙ্গেল?'
.
আমান,রিয়ার কথা শুনে থতমত খেয়ে কোনমতে আমতা আমতা করে বললো,
"আমার গার্লফ্রেন্ড তো তুমিই।আর এসব সিঙ্গেল-ফিঙ্গেল আসছে কোথা থেকে?"
.
রিয়া কৌতুককর হাসি হেসে আবার বলল, "প্রিয়ক রায়,এটা কি তোমার ফেইক আইডি?"
.
আমান বেচারা যেন ২২০ ভোল্টের শক খেলো। সে যে 'প্রিয়ক রায়' নামক আইডিটা ওপেন করেছে তা রিয়ার জানার কথা না।সে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করে আইডিটা ওপেন করেছে।কিন্তু এই মেয়ে যেভাবেই হোক বিষয়টা জেনে ফেলেছে।আমানের বুদ্ধিসুদ্ধি লোপ পাওয়ার পর্যায়ে এখন। কিভাবে সে রিয়ার জেরা থেকে রেহাই পাবে?
.
বিদ্যুৎপৃষ্ট ব্যক্তির গায়ে জল ফেলার মতো করে রিয়া তার পরবর্তী প্রশ্নে আমানকে আবার বিদ্ধ করে বসলো।
.
"তারপর ডিয়ার প্রিয়ক রায়,আপনার তো সামনে ঘোর বিপদ,বুঝতেছেন?"
.
আমান কপালের ঘাম মুছে কোনক্রমে জানতে চাইলো, " কেমন বিপদ?"
.
"আন্দাজ করো"
.
"তুমিই বলো।সম্পর্ক আর রাখবা না, তাইতো? আরে একটা আইডিই তো খুলেছি,চুরি-ডাকাতি তো আর করিনাই।তারপরও যদি মনে হয় ব্রেকাপ করবা তো আমার আর কিছু করার নাই"
.
রিয়া আমানের এমন নির্লিপ্ত জবাবই যেন আশা করেছিল।তার ঠোঁটের কোনে এখনো কিঞ্চিৎ হাসির রেখা ঝুলে আছে।হাসিমুখেই বললো,
.
"এত সহজে তো ব্রেকাপ করা যাবে না।আর একটা আইডিই তো খুলেছো, চুরি-ডাকাতি তো আর করনি(আমানের সুর নকল করে)"
.
আমান বেচারা এবার হাফ ছেড়ে বাঁচলো। মনেমনে ভাবলো যাক এ যাত্রায় সে বেঁচে গেলো শুধুমাত্র তার কথা বলার পারদর্শিতার জন্য।তার ধারণা হলো এমন যে, মিনমিন করে কথা বললে মেয়েরা জল্লাদের মতো আচরণ করে। মনেমনে মস্ত বড় একটা সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেললো আমান। তার হলের সমস্ত প্রেমিক ভাইদের (সিনিয়র-জুনিয়র) এই ট্রিকটা সে শিখিয়ে দিবে।প্রেমিকাদের রাজত্বকাল শেষ, এবার প্রেমিকসমাজ রাজত্ব করবে।এসব ভাবতে ভাবতেই তার দারুণ অনুভূতি হলো।তার পাশে যে রিয়া বসে আছে এবং তাকেই পর্যবেক্ষণ করছে তা ভুলে গেলো একেবারে।
রিয়া এবার তার সুখকর অনুভূতিতে জল ছিটিয়ে বললো,
.
"আমি যাই এখন প্রিয়ক! আর হ্যাঁ,আমাকে তো ব্লক দিয়ে রাখছো না হলে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাইতাম।রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস ও দেখলাম 'সিঙ্গেল' দেওয়া"
.
আমান অপরাধীর মতো মুখ করে বললো,
.
"আর বলোনা জান! আমার বন্ধু সিয়াম আছে না? লম্বা করে চুল কোঁকড়া! ওই ফাজিলে তোমাকে ব্লক দিয়া রাখছে।আমার ঘাড়ে কয়টা মাথা যে আমি তোমারে ব্লক দিব! বলো? আর ওই আইডিটাই আমার থেকে সিয়াম বেশি থাকে।ওসব বদ পোলাপাইন এর সাথে কথা বলার একদম দরকার নেই"
.
কিন্তু রিয়া যে তাকে 'প্রিয়ক' সম্বোধন করেছে তা ঘুণাক্ষর এও বুঝতে পারলো না আমান।
.
'প্রিয়ক রায়' (আমান) এখন চ্যাটিং এ ব্যস্ত। রিয়া দুবার কল দিল তার রিসিভ করার ফুরসৎ নেই। 'সুমাইয়া জাহান' মেয়েটা রিয়ার থেকে ঢের ভালো।রিয়াকে সে আর টলারেট করতে পারে না।সে এখন স্বাধীন প্রেমিক।রিয়াকে পাত্তা দেওয়ার টাইম কই এখন! সে এখন সুমাইয়ার সাথে কথা বলাতে কম পটাতে বেশি ব্যস্ত। তাদের কথোপকথন এর কিছু নমুনা দেই।
.
প্রিয়ক-আপনার চোখগুলোতে বড্ড মায়া,আমাকে আটকে রাখে।এমন পটলচেরা চোখ জিন্দেগীতে দেখিনাই
(প্রোফাইলে সুমাইয়ার নিজের কোন ছবি দেওয়া নেই।কোন এক নায়িকার দুটো চোখের ছবি দোওয়া শুধু)
.
সুমাইয়া-লজ্জায় লাল হয়ে যাওয়া ইমো
.
প্রিয়ক-ওপস! আপনি লজ্জা পেলে যে কত সুইট লাগে তা কি আপনি জানেন?আয়না আছে হাতের কাছে বা রুমে? থাকলে দেখেন।আমার কথা বিশ্বাস না হলে! অথবা ফোনের স্ক্রিনেও দেখতে পারেন।কি? এবার তো বিশ্বাস হলো?
.
সুমাইয়া-আবেগে আপ্লুত হওয়ার ইমো।
.
প্রিয়ক-এই আপনি কি শুধু ইমোই দিবেন? কিছু বলবেন না? বুঝেছি আপনার বয়ফ্রেন্ড এর বারন আছে, তাইতো?
.
সুমাইয়া- না ভাইয়া।বয়ফ্রেন্ড তো নেই।থাকলে কি আপনার সাথে কথা বলতাম?
.
প্রিয়ক- সো স্যাড! আমাদের দুজোনের কত মিল দেখেছেন? আপনিও সিঙ্গেল আমিও সিঙ্গেল।আচ্ছা একটা আবদার করলে রাখবেন?
.
সুমাইয়া- জানপ্রাণ দিয়ে হইলেও রাখবো।শুধু একবার বলেন।
.
প্রিয়ক- আমরা কি 'তুমি' করে বলতে পারি না?
.
এমন সময় সুমাইয়া মেসেজ সিন করেই অফলাইন হয়ে গেলো।আমানের মনে যে প্রেমের লাড্ডু ফুটেছিল তা নিমেষেই ভ্যানিশ হয়ে গেলো।তবে কি সুমাইয়া তাকে পছন্দ করে না? কি মসিবত!
এবার তার কারেন্ট প্রেমিকা রিয়ার কথা মনে পড়লো।রিয়াকে ফোন দিতেই সে রিসিভ করলো।আমান যথেষ্ট সুইট কণ্ঠে বলার চেষ্টা করলো,
.
"জান,কী করো?"(আদৌ সুইট শোনালো না)
.
"মুভি দেখতেছি।তুমি?"
.
"আর বলোনা! আমার মাথায় তো 'তুমি' আর পড়াশুনা ঘুরঘুর করো। পড়ি আর তোমার কথা ভাবি। খাইছো বাবু?"
.
"হ্যাঁ।তুমি?"
.
ঠিক সেই মুহূর্তে ল্যাপটপের স্ক্রিনে সুমাইয়ার মেসেজ ভেসে উঠলো।আমান তড়িঘড়ি করে রিয়াকে বললো,
.
"এই শুনো! ইম্পরট্যান্ট ক্লাস আছে আমার।হঠাৎ জানলাম।বাই এখন।"
.
রিয়ার কথা না শুনেই ফোন রেখে দিল সে।এখন রিয়ার থেকে সুমাইয়ার ইম্পরট্যান্স বেশি। হ্যাঁ,সুমাইয়া 'তুমি' ডাকটা একসেপ্ট করেছে।
আমানের মনে আবারো প্রেমের লাড্ডু ফুটতে আরম্ভ করেছে।
কিছুদিন পর, প্রিয়ক আই মিন আমান, সুমাইয়ার কাছে আরেক আবদার করে বসলো।
সে সুমাইয়া কে 'সুমু' ডাকতে চায়।
ওকে ফাইন! সুমাইয়া সে আবদার ও রাখলো।
তার কিছুদিন বাদে প্রিয়ক সুমুর সাথে কথা বলার আবদার রাখলো।কিন্তু সুমু তাকে চমকে দিয়ে সরাসরি দেখা করার কথা বলল।
প্রিয়ক যারপরনাই অবাক হলো।আহা! এখনকার মেয়েরা দেখা করতে বললে হাজারটা অজুহাত জারি করে।কিন্তু তার সুমু কত সুইট। নিজ থেকেই দেখা করার প্রস্তাব দিল!
.
একটা পারফেক্ট দিনক্ষণ ঠিক করলো তারা।কথা হলো এমন যে প্রিয়ক হলুদ পাঞ্জাবি পরে 'হিমু' হবে আর সুমু নীল শাড়ি পরে 'রুপা' হয়ে আসবে।
হুমায়ূন স্যার 'রুপা' কে অপেক্ষা করালেও,এখানে কিন্তু 'হিমু' অর্থাৎ প্রিয়ক সাহেব আগেভাগে এসে অপেক্ষা করতেছেন।
না জানি কত দারুণ হবে তার 'রুপা'!  মোটামুটি একটা কাল্পনিক ছবিও মনেমনে আঁকা আছে তার।তবে সে শতভাগ শিওর 'সুমু' তার কল্পনার থেকেও সুন্দরী হবে।
.
তারা যে জায়গাটা দেখা করার জন্য সিলেক্ট করেছে তা মোটামুটি নীরব। লোকজন কম।চারপাশ খুঁজে নীল শাড়ি পরা 'সুমু' কে খুঁজে পেলোনা সে।তবে কি সুমু আসবে না? বড্ড আপসেট হয়ে গেলো। ইশ! সাড়ে তিন হাজার টাকার হলুদ পাঞ্জাবীটা কিনেছে শুধু সুমুর কথায়।সে নিজে একদম হলুদ পছন্দ করে না।আরো কিছুক্ষণ কাটলো।সুমুর দেখা নাই।
নির্ধারিত সময়ের প্রায় চল্লিশ মিনিট পর.....
.
রিয়া এসে হাজির! আমান ঘাবড়ে গেছে।কিন্তু পূর্বের মতো আর ভয় নেই তার।রিয়াকে সে কেন ভয় পাবে? এখন তার সুমু আছে।
.
"তুমি এখানে? গোয়েন্দাগিরি করতে আসছো? তা বেশ! আজ হোক কাল হোক ব্রেকাপ করতেই হোতো তোমার সাথে।এমন সন্দেহবাতিক  মেয়ের সাথে রিলেশন রাখা পসিবল না"
.
রিয়াকে কোন কথা না বলতে দিয়ে একনাগাড়ে সব কথা বলেলে গেলো আমান।
.
রিয়া হাসি মুখে একটা কার্ড এগিয়ে দিল আমানের দিকে।আমান ভ্রু কুচকে কার্ডটা হাতে নিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
.
"কিসের কার্ড এটা?"
.
"খুলেই দেখো"
.
আমান কার্ডটা খুলে পড়তেই দেখে রিয়ার বিয়ের কার্ড।এর থেকে বড় ধাক্কা খায় যখন দেখে পাত্রীর নাম
.
"সুমাইয়া জাহান রিয়া"
.
এখন আমান 'ডিয়ার এক্স' গ্রুপের নিয়মিত সদস্য। রোজ দু'তিনটা বেদনাদায়ক পোস্ট দেয় সে গ্রুপে।কোনকোনদিন এপ্রুভ হয় সেগুলো😂
.
সমাপ্ত
-
বি.দ্র.এটা একটা রম্য গল্প। কেউ সিরিয়াসলি নিয়ে পার্সোনাল এটাক করবেন না প্লিজ।ধন্যবাদ।


SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

1 comment: