সারপ্রাইজড

সারপ্রাইজড

গল্প নং: (২৬)
নামঃ সারপ্রাইজড।
-
ফুচকা খেতে খেতে সেদিন রেণু আমাকে বলেছিল যেন আমাদের সম্পর্কের কথাটি আমি আমার বাসায় বলি! ওর বাসা থেকে না কি ওকে অনেক চাপ দিচ্ছে বিয়ের জন্য! কোন কিছু না করলে চিরতরে ওকে হারানোর একটি সম্ভাবনার দিক তুলে ধরে,রেণু আমাকে যুক্তি দিয়ে সেটা বুঝিয়েও দিয়েছিল! কথাগুলো সেদিন আমি শুনেছিলাম ঠিকই, কিন্তু অতটা সিরিয়াসলি নেইনি! সেটাই আজ কাল হয়ে দাড়িয়েছে আমার জন্য! বাবাকে আর রেণুর কথা বলাই হয়নি! তাই, নিজের চুল আজ নিজেই ছিড়তে ইচ্ছে করছে আমার!!
.
বাসায় রেণুর কথা বলতে না পারার এক নাম্বার বাঁধা হলেন বাবা..! তাঁর ইচ্ছের বিপরীতে কোন কিছু হলে বাড়ির দেয়ালে ঝুলে থাকা বন্দুক তাঁর কঠোর হাতে এসে শোভা পায়! তখন গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়, কথাগুলো ভেতরেই আটকে থাকে! শত চেষ্টা করেও এগুলো আর বের করা যায় না! পরিশেষে কথাগুলোও আর বলা হয়ে উঠে না!!
.
এদিকে আজ রেণুর বিয়ে। টেনশনে একদম মাথা ছিড়ে যাচ্ছে! তাহলে কি আমাদের পাঁচ বছরের সম্পর্কের এখানেই সমাপ্তি! বিষয়টি কোনভাবেই মেনে নিতে পারছি না আমি। ভেতরটা দুমড়ে-মুচড়ে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে!!
.
খেয়াল করে দেখবেন, মানুষ যখন কোন টেনশনে থাকে, তখন তার চেহারাতে সেটা ভেসে উঠে! কেউ চেহারাতে তাকিয়ে দিব্যি বলে দিতে পারে লোকটি কোন টেনশনে আছে! দুলাভাই আমার চেহারা দেখে বোধহয় এটা বুঝতে পেরেছেন। তিনি বললেন:
.
-'কি রে.. any problem?'
.
আমি বললাম: তেমন কিছু না,রেণুর আজ বিয়ে,ওর ফোন বাসা থেকে নিয়ে নিয়েছে! তাই জানাতে পারেনি! এক কাজিনের নাম্বার দিয়ে ফোন দিয়ে এখন জানাল!..
.
কি থেকে কি হল আমি বুঝতে পারলাম না। দুলাভাই একটা অট্রহাসি দিয়ে বললেন:
.
-' প্রণয়,তোর গার্লফ্রেন্ডের বিয়ে আজ,আর তুই এখনও এখানে বসে আছিস! বসে বসে টেনশন করছিস কি করবি? তোর স্থানে আমি হলে শোনা মাত্রই গাড়ি নিয়ে উধাও হতাম তাকে নিয়ে আসতে বুঝলি?.. হো.. হো..হো!'
.
দুলাভাইয়ের এ হাসিটি কেমন যেন রহস্যজনক ঠেকল আমার কাছে! দুলাভাইকে আমি যতটুকু চিনি,তিনি যত দুষ্টোমিই আমার সাথে করুক না কেন, কোন সিরিয়াস বিষয়ে অট্রহাসি দেয়ার লোক তিনি নন! কেমন যেন রহস্যর গন্ধ পেলাম। কিন্তু রহস্য উম্মোচন করা কোনভাবেই সম্ভব হচ্ছিল না আমার! সব হিসেব কেমন যেন ঘোলাটে হয়ে এল আমার কাছে! এবারে টেনশন আর একটু বেড়ে গেল!!
.
আমার ভাবনার পর্দায় আঘাত হেনে দুলাভাই বললেন:
.
-'আছে সাহস? গার্লফ্রেন্ডকে বিয়ে বাড়িতে গিয়ে সবার সামনে থেকে নিয়ে আসার??.. আছে??'
.
আমি নির্বাক হয়ে দুলাভাইয়ের দিকে তাকিয়ে থাকলাম। তখন মুখ দিয়ে কিছু বের হল না! বাবার বন্দুকের কথা মনে হলেই গলা যে আমার শুকিয়ে যায়। আমার এ অবস্থা দেখে দুলাভাই আগ্রহ হারিয়ে বললেন:
.
-'হবে না, হবে না প্রণয়! তোকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না! এ সাহস নিয়ে রেণুর মত মেয়ের সাথে প্রেমটা কিভাবে করলি তা আসলেই আমি মেলাতে পারছি না!!'
.
এই বলে দুলাভাই তাঁর প্রিয় ম্যাগাজিনে চোখ বুলাতে লাগলেন! আর এদিক দিয়ে আমার নিজের উপরেই আমার রাগ হচ্ছিল! আসলেই তো, আমাকে কি এ যুগের বয়ফ্রেন্ড ভাবা যায়? যে গার্লফ্রেন্ডের বিয়ের কথা শুনেও নীরবে বসে থাকতে পারে একদম প্রাণহীন মূর্তির মত,যারা কোন কিছুই করতে সক্ষম নয়!!
তাই বুকটা ফুলিয়ে আমি বলে ফেললাম:দুলাভাই আমি পারবো!
দুলাভাই এবার আমার দিকে তাকিয়ে জোশে বলে উঠলেন :
.
-'...এই না হলে আমার শালা! হো..হো..হো.!'
.
দুলাভাই তখন ড্রাইভারকে ফোন দিয়ে গাড়ি রেডি রাখতে বললেন, আর আমাকে বললেন মেয়ের বাড়িতে যাওয়ার জন্য বরের সাজে সেজে প্রস্তুত হতে! তারপর বুয়াকে ডাকিয়ে সেসব কাপড়ও আনিয়ে দিলেন। বর সাজার কাপড় কোথা থেকে এল, আমি জিজ্ঞাসু দৃষ্টি দিতেই দুলাভাই মুচকি হেসে বললেন:
.
-'তুই সে বাড়িতে বরের সাজে যাবি রেণুকে বউ করে বাসায় নিয়ে আসতে তাই না? তাই তোকে বর সাজতে হবে,বর! আর শেরওয়ানী, বর সাজার সব সামগ্রী কোথা থেকে এসেছে তা তোর কাছে গোপন থাকবে সারপ্রাইজড হিসেবে,সেটা সময় মত তুই পেয়ে যাবি! যা দ্রুত তৈরী হয়ে নে,আর কথা বাড়াস না!'
.
এই বলে দুলাভাই দরজা খুলে বেরিয়ে গেলেন। কিছু বলতে গিয়েও সুযোগ পেলাম না! অগত্যা বিস্ময়তার সাগরে আর একবার ডুব দিতে হল আমাকে। এ বিস্ময়তার সাগর যে অনেক গভীর!!
                .
কিছুক্ষণ পর দুলাভাই তৈরী হয়ে এলেন। একদম বিয়ে বাড়িতে খেতে যাচ্ছেন যেন এমন ভাব! আমাকে রেডি দেখে বললেন:
.
-'যাক, বেশ মানিয়েছে তোকে,একদম আসল জামাই!'
.
তারপর আর দেরী করতে না বলে দ্রুত নিচে আসতে বললেন! আমি বললাম: দুলাভাই কাজটি কি ঠিক হবে?
দুলাভাই বললেন:
.
-'কোন কাজটি?'
.
-এই যে রেণুকে ভাগিয়ে আনা!
.
এ কথা শুনে দুলাভাই আমার হাতে টান দিয়ে নিয়ে গেলেন। বুঝতে পারলাম দুলাভাই বিষয়টিতে আসলেই অনেক সিরিয়াস! তাই আর কিছু বলতে গেলাম না! তিনি যা প্লান করেছেন সে রকমই আমায় মানতে হবে আজ। কোন উল্টো কাজ তিনি করবেন না সে ভরসা তাঁর উপর আমার রয়েছে!
                   .
দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর আমরা এখন রেণুদের বাসার গেইটের সামনে দাড়িয়ে। চারদিকে বিয়ে বাড়ির আমেজ! দুলাভাই ড্রাইভারকে গাড়ি ভেতরে ঢোকাতে বললেন। আমি আপত্তি করতেই দুলাভাই চুপচাপ বসে থাকতে উপদেশ দিলেন,আর কি হয় তা নোটিশ করতে ইংগিত করলেন! আমি তাই করলাম! কোন কিছুই মাথায় ঢুকছিল না,ভয়ে চোখ বন্ধ হয়ে আসছিল!
.
তারপর বাড়ির ভেতরে এক জায়গায় গাড়ি এসে থামল। চোখ খুলে দেখি আমার বাবা-মা,বড় আপা,রেণুর মা-বাবা,রেণুর বড় ভাই,রেণুর ভাবি সকলেই হাসিমাখা মুখ নিয়ে দাড়িয়ে আছে আমাদের আসার অপেক্ষায়! নিজের চোখকে ঠিক বিশ্বাস করাতে পারছিলাম না আমি! মানুষ যখন ভাবনাতীত কিছু দেখে,নিজেকে স্বপ্নে আছে বলে নোটিশ করে। আমারও ঠিক একই অবস্থা হল! চারদিকে স্বপ্নের বাঁজনা বাঁজতে লাগল,বাস্তবেরা সেখানে পরাজিত সৈনিকের ন্যায় ময়দান ছেড়ে পালালো!!
.
দুলাভাই গাড়ি থেকে বের হয়ে আমাকে নামালেন,সাথে রেণুর বড় ভাই আসলেন! চোখটি মুছে নিয়ে আবার দেখলাম! না ঠিকই দেখছি, ঐ তো রেণু বউ সেজে বসে আছে। পাশে আমার ফ্যামিলি আর ওর ফ্যামিলির লোকজন। বেশ সুন্দর লাগছে শাড়িতে ওকে! মুহূর্তের জন্য আমি যেন হারিয়ে গেলাম! পাশ থেকে দুলাভাই বললেন:
.
-' কিরে! সব প্রশ্নের উত্তর পেয়েছিস?'
.
আমি না সূচক মাথা নাড়ালাম,একটি প্রশ্নের উত্তর এখনও পাইনি। দুলাভাই বললেন:
.
-' কোনটার?  শ্বশুর আব্বা'কে মানালো কে তাই তো?' 
.
আমি হ্যাঁ-সূচক মাথা নাড়ালাম। তখন দুলাভাই রেণুর দিকে ইশারা করে বললেন:
.
-'প্রণয়! জীবনে তুই আর যাই পেয়েছিস আর না পেয়েছিস,রেণুর মত বউ পেয়েছিস মানে   সব পেয়েছিস!'
.
আর হো..হো.. হো.. করে দুলাভাই তাঁর চেনা হাসিটা আমায় আবার উপহার দিলেন। আর কি রহস্য দুলাভাই তাঁর এ হাসিতে লুকিয়ে রেখেছে কে জানে! আপাতত এগুলো ভাবার সময় নেই আমার। রেণুকে একবার ভাল করে দেখে নেয়া যে আমার খুব প্রয়োজন! শুনেছি বউয়ের সাজে গার্লফ্রেন্ডকে দেখতে না কি অসম্ভব সুন্দর লাগে! এ সৌন্দর্য যে আমি আজীবন দেখে যেতে চাই..!

..
লিখছেনঃ যাইন খান।

ব্ল্যাকহোল স্ত্রী

ব্ল্যাকহোল স্ত্রী

গল্প নং: (২৫)
নামঃ ব্ল্যাকহোল স্ত্রী।
-
“এঙ্গেজমেন্টের দিন! আমি 'জিনিয়ার' হাত ছেড়ে দিয়ে বললাম
'তোমাকে আর ভালোবাসা সম্ভব নয়! আমি নতুন প্রেমে
পড়েছি, নতুন কাউকে ভালোবেসে ফেলেছি। জিনিয়া এক
প্রকার চিৎকার করে বললো 'এগুলো কি বলছো বাবু সোনা!
আজ আমাদের এঙ্গেজমেন্টের দিন।
আমিঃ দেখো তোমাকে আমি ছেড়ে গেলেও ,তোমাকে
ছেড়ে যেতে পারবো না।
.
জিনিয়াঃ মানে?
.
আমিঃ আমি তোমাকে ছেড়েই যেতে পারবো না।
.
জিনিয়াঃ তাহলে বলছো যে, আমাকে আর ভালোবাসবে না, বিয়ে
করবে না।
.
আমিঃ তোমাকে ভালো না বাসলেও, তোমাকেই ভালোবাসতে
হবে।
.
জিনিয়াঃ তুমি কি নেশাদ্রব্য পান করেছো? মদ খেয়েছো?
.
আমিঃ আরে না, তুমি ব্ল্যাকহোল হয়েছো, আর আমি আটকা
পড়েছি ব্ল্যাকহোলের মধ্যে।
'জিনিয়া তড়িঘড়ি করে হটলাইন "৯৯৯" নাম্বারে ফোন করে জানতে
চাইলো তাৎক্ষণিক কেউ পাগল হলে কি করা যায়? আপনারা কি
কোন সাহায্য করতে পারবেন? তারা বললো মশকরা করার জায়গা
পান না?
জিনিয়া বললো পাগলামি করে না কি হয়েছে একটু বলোতো?
কিসের ব্ল্যাকহোল? ব্ল্যাক মানে কালো, হোল মানে গর্ত!
কিন্তু তুমি কালো গর্ত! কি দিয়ে কি! কিছুই বুঝছি না।
.
২.
আমি বললাম, দেখো উপরে যদি এই এঙ্গেজমেন্টের রিং টা
ছুড়ে দাও এটা নিচে আসবে তাই না? এটা যদি আরো জোরে
উপরে পাঠাও তাহলেও এটা নিচে চলে আসবে! এভাবে আরো
জোরে একসময় এমন একটা বেগে ছুড়ে মারলে এটা আর
আসলো না নিচে! তাহলে কি হবে? জিনিয়া বললো, কি হবে
তাহলে?
অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে! উত্তরের অপেক্ষায় সে।
তাহলে হবে 'রিং' টা পৃথিবী ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে
গিয়েছে। এটা কেমন করে হলো? পৃথিবী থেকে খাড়া
উপরে যদি কোন বস্তুকে প্রতি সেকেন্ডে ১১ দশমিক ২
কিলোমিটার বেগে ছোড়া হয় তাহলে এটি আর পৃথিবীতে
ফিরে আসবে না। তাই এই বেগটিকে বলা হয় মুক্তি বেগ (Escape
Velocity)। চিন্তা করে দেখো তো পৃথিবী থেকে কেউ
কোথাও যেতে চাইলে তাকে প্রতি সেকেন্ডে ১১
কিলোমিটার যেতে হবে। মনে করো রকেটে করে আমি
চলেই গেলাম তোমাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে। কিন্তু যার যত ভর
তার মুক্তিবেগ ও বেশি। কেমন? যেমন-- বৃহস্পতি গ্রহের
মুক্তিবেগ প্রতি সেকেন্ডে ৫৯ কিলোমিটার। কত বেশি চিন্তা
করেছো? এর কারণ হলো ওই গ্রহের ভর বেশি। এবার একটু
সূর্যের কথা চিন্তা করি! এর মুক্তিবেগ সেকেন্ডে ৬১৭
কিলোমিটার! সূর্য থেকে বেরিয়ে যেতে ১ সেকেন্ডে
৬১৭ কিলোমিটার যেতে হবে? এটা কি সম্ভব তুমিই বলো? জিনিয়া
বললো না সম্ভব নয়। কিন্তু এগুলো দিয়ে তুমি কি বুঝাতে
যাচ্ছো? আমি বললাম উহু! ধৈর্য ধরে শুনতে থাকো।
.
৩.
দেখো বাবু সোনা আমরা জানি, সূর্য হলো সাধারণ মানের তারকা।
এর চেয়েও বাঘা বাঘা তারকা আছে। যেই সুর্যের মধ্যে
আমাদের ১৩ লক্ষ পৃথিবী বসানো যাবে, সেই সূর্য যদি সাধারন
মানের হয় তাহলে এর চেয়ে বিশাল কোন তারকা কেমন হতে
পারে? জিনিয়া বললো হুম ব্যাপারটা জটিল। এখন ধরো এমন একটি
নক্ষত্র আছে যার ভর সূর্যের চেয়ে এত বেশি যে হিসেব
করে এর পৃষ্ঠে মুক্তিবেগ যা পাওয়া গেল তা আলোর
বেগের চেয়েও বেশি। তার অর্থ দাঁড়াবে ঐ নক্ষত্রের পৃষ্ঠ
থেকে নিক্ষিপ্ত আলোও বেরিয়ে
আসতে পারবে না। এখন বলোতো আলো প্রতি
সেকেন্ডে কত কিলোমিটার যায়? জিনিয়া বললো তা তো জানি
না বাবু? কত হবে? আমি একটু তাহাকে বলিলাম, বাবু সারাজীবন ডিম
খেয়েছো ,বার্গার খেয়েছো, এই জিনিস কিভাবে মনে
রাখবে। যাই হোক লক্ষ্য করলাম জিনিয়া মুখ টা ছোট করে
ফেলেছে। আসলে আমি তাকে একটু অপমান করি শুধুমাত্র তার
এই সুন্দর মুখখানা দর্শনের জন্য! আলো ১ সেকেন্ডে যায় ১
লাখ ৮৬ হাজার মাইল। ভাবতে পারো, আলোর গতি গত? রাজশাহী
থেকে দ্রুত গতির একটা গাড়ি ঢাকা যেতে সময় লাগে প্রায় ৭ ঘন্টা।
আর আলো মাত্র ১ সেকেন্ডে পাড়ি দিচ্ছে এতোটা পথ। ঠিক
তেমনি বাবু সোনা আমাদের পৃথিবী থেকে বের হতে
যেমন ওই এঙ্গেজমেন্ট এর রিংটাকে মাত্র ১১ কিলোমিটার
লাগবে! ঠিক তেমনি ব্ল্যাকহোলের মধ্য থেকে বের হতে
আলোর চেয়েও বেশি বেগ লাগবে। এবার তুমিই বলো,
আলোর চেয়ে কোনকিছু দ্রুত চলতে পারে? জিনিয়া
বললো, হুম পারে। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি জিনিয়ার দিকে,
এই মেয়েটা কি পাগল? যেখানে পুরো বিজ্ঞানজগৎ প্রমান
করে দেখিয়েছে আলোর চেয়ে কোন কিছু দ্রুত চলতে
পারে না, আর এই পাগলি মেয়েটা বলে কি? আমি বললাম সেটা
কোন বস্তু বলবে? সে বললো আমার 'মন' এর গতি, আমার
মনের গতি এতোটাই যে এখান থেকে আমি ভাবি সিডনির
বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি ফিন্যান্স ডিপার্টমেন্টের হেড  হয়েছি। আমি
মুচকি একটা হাসি দিয়ে বললাম বিজ্ঞান নিয়ে ফান করো না। তো
যেহেতু আলোর চেয়ে দ্রুত গতিতে কোনকিছু যেতে
পারে না সেহেতু ওই ব্ল্যাকহোল থেকে বের হতে
আলো পারে না। আলো টাও আটকে যায়। তাই ওখানে কোন
আলো নেই। কিন্তু ভিতরে হয়তো আলো আছে। কিন্তু
উপরে দেখা যায় এটা একটা কালো গর্তের মত। আর সেই
ব্ল্যাকহোল টাই তুমি!!
.
৪.
জিনিয়া একটু কান্না কান্না ভাব নিয়ে বললো, আমি ডিম খাই তাই বলে
আমাকে ব্ল্যাকহোল বানিয়ে দিলে? আমি আলোও খেয়ে
ফেলি? কি খেয়েছি তোমার বলো? অন্য মেয়েরা তাদের
বিএফ এর টাকা খেয়ে নিচ্ছে, আর আমি তোমাকে চকচকে
টাকার নোট দিয়েছি। প্রায় মাসে আমিই টাকা দিয়েছি তোমাকে
বার্গার আর স্পিড খাওয়ার জন্য! আমি জিনিয়ার মুখে হাত দিয়ে বললাম,
গোপন কথা কেনো ফাঁস করে দিচ্ছো? আমি যা বুঝলাম সেটা
নয়; শুনো -- ব্ল্যাকহোল তো বুঝলে। এই ব্ল্যাকহোলের
মধ্যে চলে গেলে আর ফিরে আসা সম্ভব না।
ব্ল্যাকহোলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে যা তোমার মধ্যে
বিদ্যমান। আমি সেগুলো বলছি একটু মিলিয়ে দেখো->
"তোমার ভালোবাসার ভর এতোটাই বেশি যে, তোমার
মুক্তিবেগ ও বেশি, তোমার কাছ থেকে আমি ছুটে যেতে
চাইলেও আমি পারবো না! কেনোনা প্রতি সেকেন্ডে হাজার
মাইল গতি নিয়ে যেভাবে ব্ল্যাকহোল থেকে বের হওয়া যায়
না। ঠিক সেভাবেই তোমার ভালোবাসার এতোটা পাওয়ার যা আমার
কোন গতি দিয়েই আমি তোমাকে ছাড়তে পারবো না। আমি
তোমার থেকে মুক্ত হতে চাইলেও মৃত্যু ছাড়া মুক্ত হওয়া সম্ভব
না। আর প্রত্যেকটা ভালোবাসা স্বামী স্ত্রীর বন্ধন এমন
হওয়াটাই উচিত। ব্ল্যাকহোলের আছে কয়েকটি স্তর-
ক) ব্ল্যাকহোলের একটা স্তর হলো ঘটনা দিগন্ত। এখানে
গেলে আর ফিরে আসা যাবে না, ঠিক তেমনি আমি যদি বিয়ের পর
তোমাকে একের পর এক চাপ দিই, তাহলে তুমি বিপদজনক আকার
ধারণ করবে! তুমি আমাকে টেনে নিয়ে যাবে । তাই তোমাকে
চাপ দেয়া যাবে না।
.
খ) আর একটা স্তর আছে সেটা হলো - এখানে একটু নড়বড়ে
হলেই সমস্ত কিছু নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ব্ল্যাকহোল
ক্ষেপে যেতে পারে। তাই এখানে দক্ষ ভাবে চলতে হবে।
ঠিক তেমনি এটা হলো আমাদের বিশ্বাস। এটা খুব দক্ষ ভাবে
পরিচালনা করতে হবে। তোমার বিশ্বাস যেনো আমি নষ্ট না করি
সেইটা আমাকেই দক্ষ ভাবে মেইনটেইন করতে হবে। বিশ্বাস
যদি নষ্ট করে দিই, তাহলে হয়তো তুমি কঠিন আকার ধারণ করতে
পারো।
.
গ) এইটা হলো ভারসাম্য স্তর। এখান থেকে ব্ল্যাকহোল দেখা
যাবে, এখান থেকে আমরা ফিরেও আসতে পারবো। এটা
হলো নিরাপদ অঞ্চল। এর অর্থ হলো! পুরো পৃথিবী যদি আমার
কাছে অসহনীয় হয়ে উঠে, কিন্ত তোমার কাছে এসে
যেনো আমি সহনীয় হয়ে উঠি। জীবনের সমস্ত দু:খ এসে
যদি ভর করে আমার মনে, আমি যেনো তোমার কাছে গিয়ে
সুখি অনুভব করি।
এই হলো ব্ল্যাকহোলের সাথে আমার ভালোবাসা। আর সেই
ব্ল্যাকহোল টাই তুমি।
.
৫.
'জিনিয়া খুশিতে তার মুখখানা ঝলমল করছে। সে বললো, আমি
তোমাকে পাগল ভেবে '৯৯৯' এ ফোন করেছিলাম! কিন্তু
তোমার মস্তিষ্কে বিজ্ঞানসম্মত ভালোবাসা দেখে সত্যিই
আনন্দ লাগছে গো। কেনো যেনো আমার মনে হলো
ওকে একটু আবার রাগানো যাক। আমি বললাম , বাবু সোনা এটা
আসলে কিছুই না, আসল ব্যাখা টা শুনো; তুমি যেমন ডিম, চিকেন,
গো-মাংস', পালংশাক, লালশাক, নুডলস, আলু ভর্তা থেকে শুরু করে
সব রকম ভর্তা! এছাড়া মিষ্টি জাতীয় খাবার, টক জাতীয় খাবার, আবার
ফুসকার ঝাল জাতীয় খাবার ও নিস্তার দাও না! রুই মাছ থেকে শুরু
করে যত প্রকারের মাছ সব তোমার পছন্দের লিষ্টে, যা পাও
তাই সাবাড় করতে থাকো, সমস্ত খাবার পাকস্থলীতে জমা করে
রাখো। এই জায়গায় ব্ল্যাকহোলের সাথে তোমার মিল আছে,
ব্ল্যাকহোল যা পায় তাই নিজের কাছে টেনে নেয়, এমনকি
আলো এতো ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ওর থেকে বের হতে
পারে না! এই জায়গাতে এতো মিল তোমাদের যা ভাবতে
গেলেই শরীর শিউরে ওঠে। এতোক্ষন যা ব্যাখা দিলাম
এগুলো চেয়ে এটাই হলো আসল ব্যাখা। জিনিয়া তাহার নরম দুখানা
হাত দিয়ে আমার মাথার চুল মুঠোবন্ধী করে নিলো। আমি
ছাড়িয়ে নিয়ে বললাম, "ব্ল্যাকহোল স্ত্রী হবে?"
.
লিখেছেনঃ আতিক হাসান।

অপেক্ষা

অপেক্ষা

গল্প নং: (২৪)
নামঃ অপেক্ষা
-
সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত...
.
খুব ভালো পরিবার থেকে অনিতার জন্য এ পর্যন্ত পাঁচ খানা সম্বন্ধ আসে।অনিতা এখন বিয়ে করবে না বলে সবগুলো বিদায় করে।সে এখন পড়ালেখা করতে চায়।এগুলো সব অভিনয়।আমার জন্য মেয়েটা প্রতিনিয়ত এসব অভিনয় করে যাচ্ছে।অনিতা খুব একটা অদ্ভুত মেয়ে কতবার বলছি-চলো পালিয়ে বিয়ে করে নিয়।কিন্তু না, কে শুনে কার কথা।অনিতার মুখে একটাই কথা তোমাকে আমি ভালোবাসি তবে পালিয়ে বিয়ে করতে পারবো না।কিন্তু তোমাকে ছাড়া আমি আর অন্য কাউকে জীবনসঙ্গী করবো না।আমি চাই না আমার জন্য আমার বাবা সমাজে মাথা নিচু করে চলাপেরা করুক!
.
অনিতাকে খুব ভালোবাসি।মায়ের কাছে বায়না ধরছি বাবা যেনো তাদের বাড়িতে বিয়ের সম্বন্ধ নিয়ে যায়।বিয়ের সম্বন্ধ কোন মুখে নিয়ে যাবে?আমি 'তো এখন ও বেকার।বাবা ছোটখাঁটো একজন ব্যবসায়ী।আমি পড়াশুনা বেশি দূর করি নাই কিন্তু হাতের একটা কাজ খুব ভালো জানি সেটা হচ্ছে- ইলেকট্রিক কাজ।রাত হলে বাবা কাজর্কম শেষ করে ঘরে ফিরে আসে।মা সত্যি মনে হয় অনিতার কথা বলছে বাবাকে।বাবা সকাল বেলায় ব্যবসার কাজে যাওয়ার আগে অনিতার বাড়িতে যায়।অনিতার বাড়ি আমাদের থেকে বেশি দূরে না এই ২ কিলোমিটার হবে।বাবা তাদের বাড়িতে গিয়ে কথা বলে আসে। এখন শুধু রাতে বাবা আসার অপেক্ষা আছি।বাবা মেবি অনিতার বাবাকে বলছে আমরা দুইজন দুইজনকে পছন্দ করি।এখন শুধু অনিতা আমাদের ঘরে বউ সেজে আসার পালা!
.
আমার বাবা রাতে ফিরে আসলে তখন বুঝলাম সত্যি এমন করে তাদের বলছে।তবে অনিতার বাবা অনিতাকে এখন বিয়ে দিবে না।তার বাকি পড়ালেখা শেষ করলে আমার হাতে তুলে দিবে।তবে আমার কাছে সে যোগ্যতা থাকতে হবে।আমার বাবাকে যখন এগুলো বলে বাবা সেদিন ঠিক করছে আমাকে প্রবাসে পাঠাবে।প্রবাস থেকে আসলে আমাদের বিয়েটা হবে।তাছাড়া ইলেকট্রিক কাজ আমার জানা আছে প্রবাসে গেলে কিছু একটা করতে পারবো সে চিন্তা করে বাবা পাশের গ্রামের মাজেদা খালার স্বামীর সাথে কথা বলছে।
হামিদ অাঙ্কেল বেশ ভালো মানুষ উনার হাত ধরে অনেক ছেলে প্রবাসে গেছে।উনাকে বলাতে উনি আমার জন্য কোম্পানির একটা ভিসা কিনে রাখে।পাঁচলক্ষ টাকা দেওয়ার পরে হামিদ আঙ্কেল বাবার হাতে ভিসা তুলে দেয়।এখন শুধু টিকিট এর তারিখ এর জন্য অপেক্ষা।প্রবাসে আসার কিছুদিন আগে বন্ধুরা বলাবলি করতেছে-অনিতা নাকি আমাকে ভুলে যাবে।সে আমার জন্য অপেক্ষা করবে না।তার পড়ালেখা শেষ হওয়ার পরপরে বিয়ে দিয়ে দিবে।আমার বন্ধু হয়তো জানে না?আমি এমন এক মেয়েকে ভালোবেসেছি সে আমি আসার অপেক্ষা দিন এরপর দিন গুণতে থাকবে তু্ুবুও অন্যর হাত ধরবে না।শুধু তাই না অনিতাকে অচেনা নাম্বার থেকে কেউ কল দিলে অনিতা বলে- হ্যাঁ আমি অনিতা বাহদুর বলছি।কি বলবেন তাড়াতাড়ি বলুন।এ কথাটা যখনই শুনি তখনই কেমন জানি ভালো লাগা শুরু করে।
অামি জানি সে আমার জন্য অপেক্ষা করবে।
.
কিছুদিন পরে মা,বাবা,প্রিয় মানুষটাকে ছেড়ে স্বপ্ন পূরণের সে যায়গা চলে আসছি আমি।
শুরুতে প্রবাস জীবন বেশ ভালো যাচ্ছিলো।
বছর ঘুরতে না ঘুরতে আবার আমার ভাগ্যের চাকা থেমে গেলো।কোম্পানি হঠাৎ করে
সবকিছু বিক্রি করে অন্য দেশে চলে যায়।তার চলে গেলেও বা কি আমাদের মতো কর্মকারী চল্লিশ পঞ্চাশ জন মারা গেলে তাদের কি?
হয়তো কিছুই যায় আসে না তাদের।সবার হাতে পার্সফোট ধরিয়ে দিয়ে বলে-তোমরা সবাই ক্যানচেল আজ থেকে।টিকেট নিয়ে নিজের দেশে চলে যাও।কি আশ্চর্য
৫ লক্ষ টাকা খরচ করে পরিবার পরিজনকে ছেড়ে নিজের ভালোবাসার মানুষকে ছেড়ে স্বপ্ন পূরণ করতে অচিনদেশে আসছি আর সেটা পূরণ না করে কি চলে যাবো? না আমি যাবো না।নিজুয়া নামক যায়গা থেকে পালিয়ে সানাইয়া শহরে চলে আসি।ভিনদেশের পরিচয় পত্র হিসেবে আমার সাথে আছে মাতৃভূমির পরিচয়টুকু।পার্সফোট এ বড় বড় অক্ষরে লিখা আছে-

মো:সায়মন বাহদুর।
বাবা-ইরফান বাহদুর।
মাতৃভূমি-বাংলাদেশ।
জন্মস্থান -চট্রগ্রাম।
.
নামের পাশে বাহদুর ঠিকে আছে কিন্তু আমি পালিয়ে পালিয়ে বেড়াইয়।আমার কাছে এতটুকু পরিচয় আছে অালহামদুলিল্লাহ্।এমনও লোক আছে তাদের নাই কোনো পরিচয় পত্র।যাকে বলে অজ্ঞাতনামা।মা,বাবা নিজের মাতৃভূমি থাকার পরেও যদি নিজের পরিচয় না দিতে পারে তাদের কেমন লাগে?হয়তো খুব কষ্ট লাগে ঠিক সে অজ্ঞাতনামা মানুষগুলোর কষ্ট লাগতেছে।ভিষণ কষ্ট তাদের মনে।আমার ভিনদেশের কোনো পরিচয় পত্র আমার কাছে নাই।সবকিছু রেখে আসছি কোম্পানির ম্যানেজার এর কাছে।অনেক রিকুয়েস্ট করছি অাঙ্কেল কে আমার পরিচয় পত্র এর কাগজ গুলো দেওয়ার জন্য।উনি তো কাগজ দিলেন না উল্টা ধমক দিয়ে বলে- get out of here lazarusকি আশ্চর্য! ৫লক্ষ টাকা বিনিময় আজ এ গালি শুনতে হচ্ছে। শুনতে হচ্ছে আমি নাকি একজন ভিক্ষারী।সব মুখ বুঝে সহ্য করে সানাইয়া শহরে নিজ গ্রামের কিছু আত্মীয়র কাছে সাড়ে চারবছর ছিলাম।অনেকবার পুলিশ এর দৌড়ানি পর্যন্ত খেয়েছি।তাদের ভয়ে পাহাড়ের গুহায় রাত পর্যন্ত কাটাতে হতো আমায়।
.
মা অনেকবার বলছে- তোর কি বেশি কষ্ট হচ্ছে নাকি?উত্তর একটাই দিতাম- না মা আমি ঠিক আছি।বেশ ভালো আছি।মা বিশ্বাস করে নিতো আমার কথা।অনিতা প্রায় সময় বলতো এভাবে লুকিয়ে আর কতদিন?উত্তর একটাই দিতাম- আর অল্পকিছু দিন আছে।এরপরে নিজ দেশে চলে আসবো।নিজ দেশে চলে আসা কি এতো সহজ?হয়তো কঠিন এর চেয়ে কঠিন।সাড়ে চারবছর থাকার পরে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করি।তারা ১২দিন যাবত অনেক কষ্ট দিয়েছে আমাকে।এ ১২ দিনের কষ্ট মনে হয় আমি ১২ বছরেও পাই নাই।তারপরেও আমি হ্যাপি কারণ নিজ মাতৃভূমি আসতে পেরেছি।খু্ব ভোর বেলায় বিমান ল্যান্ড করছে।সূর্যি মামার অালোতে চিকচিক করতেছে পুরা চট্রগ্রাম এয়ারপোর্ট।পাখিদের কিচিমিচি শব্দ।বাহিরে এসে দেখি বাবা দাঁড়িয়ে আছে।খুব দ্রুতগতি হেঁটে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলেন।আমিও খুব কাঁদছিলাম।নিজের মন শক্ত করে বাবাকে বলি-
.
_বাবা আমিতো এসে গেছি আর সমস্যা নাই। চলো বাড়িত ফিরে যাই।
_হ্যাঁ চল,ঐদিকে ভাড়া চলিত গাড়ি আছে।
.
গাড়ি নিয়ে রওনা দিলাম বাড়ির দিকে খু্ব তাড়াতাড়ি বাড়িত চলে আসি।মা জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলেন।মাকে কেউ থামাতে পারছে না।মা শুধু কেঁদে যাচ্ছেন।কি বলে মাকে শান্তনা দিবো তার কোনো ভাষা আমার কাছে নাই।তারপরেও কান্না কণ্ঠে বলি-
.
_মা থামো অনেক কাঁদছো আর না।এখন তো আমি চলে আসছি তোমার কোলে।চলো মা ভাত দাও খু্ব ক্ষুধা লাগছে।
_হ্যাঁ বাপজান,গোসল করে রান্না ঘরে আয়।
.
দুপুরবেলা খেয়ে একটু বিশ্রাম নিয়।বড় ক্লান্ত ছিলাম কখন চোখ বয়ে ঘুম এসে গেলো বুঝতে পারি নাই।পরেরদিন বিকালে চলে গেলাম অনিতার সাথে দেখা করতে।অনিতা উঠানে বসে আছে।আমাকে দেখে অনিতা রুমে চলে যায়।আঙ্কেল আন্টির সাথে রুমে বসে কথা বলতেছি।কিছুক্ষণ পরে অনিতা রুম থেকে বাহিরে আসে।অনিতার চোখ লাল হয়ে আছে।পাগলী হয়তো রুমে বসে বসে এতক্ষণ কাঁদছে।আশ্চর্য সবাই কাঁদতেছে
কেন? আমিতো চলে আসছি।অনিতা তার বাবার পাশে দাঁড়িয়ে আছে মাথা নিচু করে। কোনো কথা বলতেছে না।মেয়েটা অাসলে লজ্জাবতী কেউ কথা বললে কথা বলে না হলে নিজ থেকে বলে না।কিন্তু নিজ থেকে সবাইকে বেশি ভালোবাসে।একটু হাসি দিয়ে আমি বলি-
.
_অনিতা কেমন আছো?
_হ্যাঁ ভালো অাছি,আর তুমি কেমন আছো
_এইতো এখন বেশ ভালো আছি।
.
তার বাবার সামনে আর বেশি কথা বলতে পরলাম না।বলতে পারলাম না তুমি একজন ধৈর্যবতী মেয়ে। আমাকে ভালোবেসে আমার জন্য সাড়ে চার বছর যাবত অপেক্ষা করছো।
আর তুমি অপেক্ষা করতে হবে না এ অল্পকিছু দিনপর তোমার আমার মিলন হবে।অনিতার বাবা মায়ের সাথে কথাবার্তা বলে আবার বাড়িত চলে আসছি।
.
তার বাবা কথা শুনে আমি বুঝতে পারলাম অনিতাকে আমার হাতে তুলে দিতে রাজি।এ মাসে বিয়েটা হয়ে গেলে ভালো মনে করেন উনি। তারপরেও বিয়ের আগে আমি একটা চাকরীতে জয়েন্ট করতে চাই।কিছুদিন ঘুরাপেরা অবসরে দিন যায় আমার।একদিন সকালে চট্রগ্রাম থেকে বন্ধু রাজিব ফোন করে বলে -
.
_দোস্ত চাকরী করলে আসিস।স্যারকে বলে তোর জন্য চাকরি একটা ব্যবস্থা করে দিতে পারবো।
রাজিব এর কথা শুনে আবার চট্রগ্রাম রওনা দিলাম।গ্রামীণফোন অফিসে কাজ।১২ হাজার টাকা বেতন আবার এক্সটা ট্রিট ও পাওয়া যাবে মাঝে মধ্যেয়।চাকরি'তে জয়েন্ট হয়ে যাই।
আমাদের কাজ ছিলো গ্রামীণ টাওয়ার ইলেকট্রিক এর।আমাদের টিম এ ২০ জন কাজ করে।পড়াশুনার পাশাপাশি ইলেকট্রিক কাজ শিখাতে আজ কাজটা পেয়েছি।সকাল না হতে অনিতার ফোন-
.
_এখন ও কি ঘুমে তুমি?
_না,এইতো এ মাত্র ঘুম থেকে উঠছি।আজকে একটু কাজ অাছে বাহিরে।
_ও আচ্ছা,তাহলে কাজে যাও।
_অনিতা?
_হুম বলো-
_অনেকদিন আমার জন্য অপেক্ষা করছো।আর ১ মাস অপেক্ষা করতে পারবে না?
_হ্যাঁ পারবো।
.
অনিতা হ্যাঁ বলতে গিয়ে মনে হয় লজ্জা পেয়েছে।হ্যাঁ বলার সাথে সাথে ফোনটা রেখে দেয়।বাহিরে হালকা হালকা বৃষ্টি।বৃষ্টি থামার জন্য অপেক্ষা আছি আমরা চরজন।বৃষ্টি থেমে গেলে কাজের উদ্দেশ্য রওনা দিয়।উঁচু টাওয়ার খুব একটা ভয় লাগে উঠতে ওখানে।তারপরেও বুকে শাহস রেখে আস্তে আস্তে উপরে উঠে গেলাম।খুব দ্রুত কাজ ও শেষ করলাম।
তাড়াহুড়া করে নিচে নামতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যাই।এতটাই উপর থেকে পড়ছি আমি সাথে সাথে জ্ঞান হারিয়ে ফেলছি।বন্ধুরা ধরে যখন আমাকে গাড়িতে তুলে তখন আমার জ্ঞান ফিরিয়ে আসে।রাজিব কাঁদতেছে,
পাগল বন্ধুটার চোখে কখনও জল দেখি নাই।সবাইকে বিনোদন দেয় সে বন্ধুটার চোখে পানি আমার জন্য।
.
আমার খুব বেশি তৃষ্ণা লাগছে ।কিন্তু মুখ দিয়ে শব্দ করে বলতে পারছি না-কেউ একটু পানি দিয়ে যাও?আশ্চর্য মায়ের কথা মনে পড়ে গেলো।রাত ২টা,৩টা যখনই চিৎকার দিয়ে বলতাম -মা ও মা পানি দাও।আমার মা উঠে আমাকে পানি দিয়ে যেতেন।আজ শেষ নিশ্বাসটুকু চলে যাচ্ছে মায়ের হাতে তো নিজের তৃষ্ণা মিটাতে পারলাম না।আমার চোখ দুইটা বন্ধ হয়ে আসছে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি ঝাপসা ঝাপসা দেখতে পাচ্ছি। পাখি দুইটা ডানা মেলে উড়তেছে।খুব ইচ্ছা করছে পাখির মত উড়াল দিয়ে অনিতার কাছে গিয়ে মাফ চাইবো আর বলতাম- তুমি এতদিন যার জন্য অপেক্ষা করছো সে মানুষটা তোমাকে ছেড়ে একা চলে যাচ্ছে।কিন্তু অনিতা'কে সে কথাটাও বলতে পারলাম না।নীল আকাশ কেমন জানি কালো দেখা যাচ্ছে।কি অদ্ভুত নীল আকাশ কিভাবে কালো হয়?হয়তো নীল আকাশ ও আমার উপর অভিমান করছে।আমি আর কিছুই দেখতে পাচ্ছি না চারদিকে শুধু অন্ধকার আর অন্ধকার!
.
জীবনের গল্পটা আমার রুমমেট এর"
.
লিখেছেনঃ মো:ইমরান হোসাইন "