গল্প নং: (১০)
নামঃ সাইকো থ্রিলার : ব্ল্যাক কফি
.
(চ্যাট হিস্ট্রি)
"প্লিজ এষা, একটা চান্স দাও৷ দেখো, আমি তোমাকে একটাও অভিযোগ করার সুযোগ দেব না"
"এত ন্যাকামি কই পাও তুমি"
"অফ যাও"
"আমি জানি আমি খুব boaring । আই অ্যাম স্যরি"
"My Gosh! বোরিং বানানটাও ভুল।"
.
বিরাট ঝামেলায় আছি একে নিয়ে। এক বছর আগে ব্রেকাপ হয়েছে৷ এখনো আঠার মত লেগে আছে৷ কি পরিমান অপমান করি এই গাধাটাকে৷ তারপরেও ছাড়ে না৷ এদিকে একে শেষবারের মত ব্যবহার করতে গিয়ে ফেসে গিয়েছি৷ ফেসে গিয়েছি ভয়াবহ ভাবে৷ ঘটনার সূত্রপাত চ্যাটে,
"এশা আমি আর বাংলিশ এ চ্যাট করব না৷ নিজেকে এক দম পাল্টে ফেলব৷
"I swear"
"Boring বানানও ভুল করব না"
"die"
"kill me"
"এক কাজ করো দশটা ফার্মেসি ঘুরে ৫০টা ৫ এম জি ঘুমের বড়ি জোগাড় করে খেয়ে ফেল"
"খাব তবে তুমি নিজের হাতে আমাকে দিলে"
"শিওর তো ?"
"কথা দিচ্ছি"
'খুন করতে পারবে?"
"পারব"
"মানে কি! আচ্ছা, আমি কিন্তু সিরিয়াস"
"আমিও। তবে শর্ত একটাই, দেখা করতে হবে আমার সাথে"
"হাহা। শর্ত মঞ্জুর জনাব"
.
কথা গুলো ফাজলামি করেই বলেছিলাম। রাতে ক্রাশের টাইম লাইনে ঘোরা ফেরা করছিলাম। সে এক জন ছোট খাটো সেলিব্রেটি৷ রোমান্টিক ছিল ছেলেটা৷ লেখক মানুষ৷ দারুণ কথার খেলা জানে। কিন্তু ওই যে সেলিব্রেটি মানুষ, মেয়েরা তার উপর ক্রাশ খাবে এতে সে অভ্যস্ত।পাত্তা পেলাম না তার কাছে খুব একটা৷ ব্লকও খেয়েছি মেসেজে। তার নতুন গল্পটা পড়ছিলাম আর এসব ভাবছিলাম। হঠাৎ মনে হল ছেলেটা মরে গেলে কেমন হয়? অনুভুতির জগতে কারো উপর নির্ভর করতে চাই না আমি, তাই প্রেমে পড়া ব্যাপারটা আমার চরম অপছন্দ। কিন্তু এই ছেলেকে কিছুতেই ব্রেইন থেকে বের করতে পারছি না। রাগ, ঘৃণা, তীব্র আকর্ষণ আর সূক্ষ্ম অপমানের যে মিশ্র অনুভুতি আমার মাথা খারাপ করে দেয়৷ তা থেকে মুক্তির এক মাত্র উপায় সেই ছেলের মৃত্যু৷ এক ঢিলে দুই পাখি, পৈশাচিক আনন্দ পাচ্ছি মনে মনে।
.
"এর নাম সোহাইল রহমান । এটা তার ফেইসবুক আইডি। রস + আলো তে লেখে। বাড়ি মাগুরা। উম, তেমন কিছু জানি না আর। একে মারতে পারবে?" ক্যাফে লা ভিস্তার কর্নার সিটে হিমেলের মুখোমুখি বসে আছি।সে বললো, "পারব। জাহান্নামে গেলেও খুঁজে বের করব তাকে। শুধু তুমি আমাকে একটু ভালবাসবে।"
.
"বাসব রে পাগলা, এই ছেলে মরলেই বাসবো। ও যদি বেঁচে থাকে তাহলে ওর উপর থেকে আমার ক্রাশ কিছুতেই যাবে না।"
.
"ওকে মহারাণী৷ আপনার জন্য সবকিছু করতে পারে এই বান্দা। তবে, আমার এডভান্সটা ?"
.
অতিরিক্ত ভালবাসায় এর মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটলেও, বুদ্ধি কমে নি। তাই বাধ্য হয়েই ২০ সেকেন্ডের লম্বা চুমু দিতে হল শালাকে।
.
এরপর ১৭ দিন হিমেলের কোনো খবর নেই। ফেইসবুকের বদৌলতে জানলাম সোহাইল রহমান ১০ দিন যাবত নিখোঁজ । সকালে ফোনে মেসেজ। "আপনার কাজ হয়ে গেছে মহারাণী৷ তার লাশও কেউ খুঁজে পাবে না। কাল দেখা হচ্ছে। বিকাল ৪ টা। ওসমানী পার্ক।
.
অদ্ভুত লাগছে। খুন করা এত সোজা? ঘটনা কি ঘটলো! খুব কান্না পাচ্ছে। সত্যি কি লেখকটার প্রেমে পড়েছিলাম ?
.
ওসমানী পার্ক থেকে হিমেলের কোনো এক বন্ধুর বাসায় গেলাম। ভাবছি রুমডেটের পর বুঝিয়ে সুজিয়ে ছাগলটাকে জীবন থেকে গেটআউট করে দেব৷ একটা খুনির সাথে আর যাই হোক সংসার করা যায় না৷ তবে যে আমার জন্য এত কিছু করল তাকে অন্তত একবার তৃপ্তি দেয়াই যায়৷
.
ক্লান্ত ঘর্মাক্ত শরীরে শার্টের বোতাম লাগাতে লাগাতে হিমেল বললো, তুমি বসো, আমি তোমার জন্য ব্ল্যাক কফি বানিয়ে আনছি। আমি মনে মনে কথা গুছিয়ে নিচ্ছি। কফি খেতে খেতে একে ঠাণ্ডা মাথায় বুঝাতে হবে৷
.
কফিটা চরম বাজে আর তেতো হওয়া সত্ত্বেও কোৎ করে দু চুমুক গিলে ফেলি৷ তারপর বললাম, "দেখ হিমেল, তুমি জানো তুমি আমার টাইপ না। তাই এ রিলেশনে কেউ সুখী হব না।"
.
"জানি তো। তবে এই মুহূর্তে আমরা দুজনেই সুখী তাই না?"
"হ্যা, কিন্তু....."
"কফিতে বিশটা বিশটা করে চল্লিশটা ১৫ এম জি টেনিল মিশিয়েছি। সুখী সুখী সময়ে দুজন একসাথেই চলে যাব "
" মানে কি?"
"তোমাকে একটু হলেও তো চিনি মহারাণী! বাই দা ওয়ে, তোমার লেখক ভাল লিখত৷ তার গল্প থেকেই ব্ল্যাক কফির আইডিয়াটা ধার করেছি।"
.
সংবাদঃ সিলেটের একটি ফ্ল্যাট থেকে তরুণ তরুণীর লাশ উদ্ধার৷
-
লেখা : নিশাত তাসনীম৷
Author: Jahid
Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.



0 Comments: