স্বপ্ন

গল্প নং: (১৪)
নামঃ স্বপ্ন
-
হঠাৎ করেই ঘুমটা ভেঙে গেল। কয়টা বাজে দেখার জন্য  ফোনটা হাতে নিলাম, রাত ১ টা ৩৫.. নিচে তারিখ টাও ভাসছে,, ১১ এপ্রিল..  বাইরে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে,  মনে হয় বৃষ্টি হবে। কেমন জানি, অস্বস্থি হচ্ছিল তাই বারান্দায় এসে সিগারেটটা ধরালাম।
১০ বছর আগে, হুম এমন এক রাতে অস্থির হয়ে গিয়েছিলাম ইরার জন্য।   ইরা আমার ফেন্ড।  কিন্তু ওরে হয়তো ভালবেসে ফেলছিলাম তাই এমন অস্থির লাগছিল। তারপর ইরার সাথে আমার সম্পর্কও হয়েছিল। খুব ভালবাসতো আমায়,  হয়তো আমিও বাসতাম কিন্তু ইরার মতো না। আমরা সমবয়সী ছিলাম।  সমবয়সীদের হ্যাপী এন্ডিং সম্ভব না, তাই আমাদের সম্পর্ক টার ভাল একটা পরিনতির জন্য,  আমরা সিদ্ধান্ত নেই, পালিয়ে যাওয়ার। কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয় নাই। অন্য দিকে ইরার বাসায়ও আমাদের সম্পর্ক টা মেনে নেয়, ইরার পাগলামির জন্য। কিন্তু এখন,  সমস্যা হল আমার।  ইরাকে এখন আর ভাল লাগে না। অতিরিক্ত ভালবাসে আমায়,  যা এখন আার সহ্য হয় না।  সময় যাচ্ছিল, কিন্তু আমি সম্পর্ক টা এগুতে পারছিলাম না। ভাল লাগছিল না আর ওকে।  তারপর, কলেজ।। ঢাকায় আসলাম,  নতুন কলেজে ভর্তি হলাম। হুম, ইরার সাথে যোগাযোগ হতো, কিন্তু কম। ইরা বারবার,  কল,  মেসেজ দিতো,  খুব এবয়েডও করতাম, কিন্তু কোন কাজ হচ্ছিল না। তারপর,  সরাসরি বিরক্তি প্রকাশ করতে শুরু করলাম,  ইরা কোনদিন ভাবতে পারেনি, আমি ওর সাথে এমনটা করতে পারি।  কিন্তু আমি করেছিলাম,।। এছাড়া কি করতাম,  বিরক্তি হয়ে গেছিলাম ওর প্রতি।  আমার সামনে একটা ভবিষ্যৎ ছিল।। আমি শুধু ইরা নির্ভর হয়ে থাকতে পারছিলাম না।  আমি ওর মতো সাদামাটা হয়েই জীবন কাটিয়ে দিতে পারতাম না। ইরা চাইছিল, সম্পর্ক টা থাকুক। মাঝে মাঝেই কল দিয়ে কাঁদত,  বুঝতে পারতাম।  কিন্তু কেন জানি ওর কান্না টাও বিরক্ত লাগতো। শেষের দিকে ওর কল ধরতাম না একদমই। বেশী কল দিলে,  ফোনটাই অফ রাখতাম। আস্তে আস্তে ইরাও কেমন জানি হারিয়ে গেল। বিরক্ত করা আস্তে আস্তে কমিয়ে দিতে লাগল, হঠাৎ ই হারিয়ে গেল। আমিও আর ওরে, খুজতে চেষ্টা করি নাই। তখন, আমি ব্যাস্ত ছিলাম,  আমার আর লামিছার বন্ধুত্ব নিয়ে।
আজ ১০ বছর পর, আমি একটা বড় কোম্পানিতে চাকরি করি। আমার বউ, লামিছা। সেও একটা ভাল চাকরি করে।আমাদের বিবাহিত সংসার ৪ বছরের।  লামিছা, আমাকে ভালবাসে কিন্তু ইরার মতো না। এখন,  প্রায়ই ইরার কথা মনে হয়। ইরার কোন খবর জানি না। বেচে আছে নাকি তা ও জানি না। এখন প্রায়শই,  ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে ইরার আর্তনাদ শুনতে পাই। ইরা কাঁদতে কাঁদতে বলছে,  আমি থাকতে পারি না তরে ছাড়া।আমাদের সম্পর্ক টা শেষ করে দিস না। ইরার খুব শখ আমাদের ১ম মেয়ে সন্তান হবে আর নাম রাখবে রোদেলা।  এগুলা ভাবতে ভাবতেই সকাল হয়ে গেল। লামিছা, ঘুম ভাঙার পর মাত্র বুঝলো, আমি ওর পাশে নাই।ইরা হলে হয়তো,  ওরে রেখে ওঠা সম্ভব ছিল না।লামিছা,খুব পরিপাটি আর নিজেকে নিয় ব্যস্ত কিন্তু ইরা আমাকে নিয়ে ব্যস্ত থাকতো।  আমাদের সংসারে এখনও নতুন অতিথি আসে নাই। অনেক চেষ্টাতেও কোন লাভ হয় নাই।  অনেক ডাক্তার দেখাইছি। কিন্তু কিছু হয় নাই। 
১১ এপ্রিল বিকাল ৫ টা,,
লমিছাকে নিয়ে ডাঃ এর কাছে আসছি।  ক্লিনিক এর ওয়েটিং রুমে বসে আছি। আমি আর লামিছা, অফিসের এক কলিকের মাধ্যমে এই ডাঃ এর খুজ পাই।  তিনিই সিরিয়াল এর ব্যবস্থা করেছেন। তিনিও আমাদের সাথে বসে আছেন। তিনি বলতাছেন, ডাঃ এর বয়স কম হলেও, খুব ভাল চিকিৎসা করে।তাই তো এতো ভীর।
লামিছার সিরিয়াল আসলো,  ওর সাথে আমাকেও যেতে হবে।  চেম্বারে ঢোকলাম, ডাঃ মাথা না উঠিয়েই আমাদের বসতে বললেন,  লামিছার নাম এবং সমস্যা লিখতে লিখতেই নিচের দিকে তাকিয়েই জানতে চাইলেন, আপনার স্বামী আসছে?? আমার ওয়াইফ বলল, হ্যা আসছে। তারপর ডাঃ,  আমার নাম জানতে চাইলেন।  আমার নাম শুনে, লিখা বন্ধ করে ডাঃ আমার দিকে তাকালো।  এতক্ষণ চেহারা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল না। কিন্ত এখন সব টাই স্পষ্ট। হুম, এটাই ইরা।  ইরা নিজেকে সামলানোর জন্য গ্লাসে রাখা পানির দিকে হাত দিল, আর আমি ওর নেইম বোর্ডটার দিকে তাকালাম।
ডাঃ সাদিয়া আফরিন। হুম, এটা ওর ভাল নাম। ইরা,  এখন স্বাভাবিক ভাবেই লামিছার সাথে কথা বলছে। হুম, ইরার চোখে পানি,  আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি।   আমার চোখেও হয়তো পানি আসছে। কিন্তু এটা দেখার মতো আগ্রহ ইরার মাঝে নেই। সে একজন প্রফেশনাল ডাঃ এর মতোই ব্যবহার করল।
চেম্বার থেকে বের হয়ে, আবার ওয়েটিংরুমে এসে বসলাম। বাস্তব টা বিশ্বাস করতে চেষ্টা করলাম। ইরার মাঝে অনেক পরিবর্তন আসছে। আট বছর পর, আমাদের দেখা হল। আগের ইরা হলে হয়তো,  লামিছার সামনেই আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করতো কিন্তু না। ইরার মাঝেও পরিবর্তন আসছে।  টেস্ট করতে, অনেক লেইট হবো ভাবছিলাম কিন্তু না, লামিছা বলল, ওর নাকি সিরিয়াল ধরতে হয় নাই। ওর টেস্ট সবার আগে করছে।  রিপোর্টের জন্য বসে আছি। এর মাঝে, লামিছা বলল, কি ব্যাপার বলতো, আমাদের এতো ইমপরটেন্ট দিচ্ছে??  আমি চুপ করে আছি।  ইরার পি এ, এসে বলল আপনাদের মেম ডাকছেন।
ইরা সব রিপোর্ট দেখে বলল, কিছু সমস্যা আছে। চিন্তা করবেন না, ওষুধেই সেরে যাবে।  আপনারা খুব তাড়াতাড়ি খুশির সংবাদ পাবেন।  কথা গুলা  বলার সময়, ওর কথা আটকে যাচ্ছিল।  হঠাৎ পি.এ এসে বলল, মেম রোদেলা আম্মু আম্মু বলে, কাঁদতেছে। ওর কান্না থামানো যাচ্ছে না। ইরা বলল, ওকে নিয়া আস।  আর আজ আমি কোন রোগী দেখবো না। ড্রাইভারকে গাড়ি বের করতে বল। রোদেলা,  নামটা শুনে, কেমন যেন অস্বস্থিটা বেড়ে গেল।  ইরা, সব ওষুধগুলো লামিছাকে বুঝিয়ে দিল। আর বলল, এই ওষুধেই লামিছা সুস্থ হয়ে যাবে। আর দেখা করতে হবে না। এর মাঝেই পি.এ রোদেলাকে নিয়ে হাজির হল।  ছোট্ট রোদেলা,  ভেজা চোখে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তারপর, ইরা রোদেলাকে কোলে নিয়ে বের হয়ে গেল। একবারও পিছনে ফিরে তাকায় নি।  পি.এ এর কাছ থেকে জানলাম,  রোদেলা অনাথ আর ইরা এখনও বিয়ে করে নি।
.
সময় সব কিছুর উর্ধ্বে।  জীবনে যে আছে, তাকে ভালবাসুন। সম্মান করুন। ইরার মতো হাজারটা মেয়ে আছে। ইরা যখন, আপনাকে নিয়ে খুশি,  তখন ইরার মতো করে ভাবেন,  দেখবেন আপনিই পৃথিবীর সবচেয়ে সুখি মানুষ।। সবাই এক না, সবাই সবার মতো না।  ইরারা হয়তো খুব সাধারণ হয়। কিন্তু  তারাও স্বপ্ন দেখে, সংসারের।  শুধু মাত্র আপনাদের ভাল না লাগার জন্য,  ওদের স্বপ্ন গুলা নষ্ট করে দিবেন না।  যদি এমনটা করেন, তাহলে নিশ্চই মনে রাখবেন, একদিন আপনিও উপলধ্বি করবেন, তখন কিন্তু নিজেকে মাফ করতে পারবেন না।।
.
চোখ খোলার পর বুঝতে পারলাম আমি হাসপাতাল এর
বেডে। মাথাটা কেমন জানি ঝিমঝিম করছে। এমন সময়,
কানে একটা কন্ঠ আসলো। তাকিয়ে দেখি, সিনিয়র ডাঃ
গণ দাড়িয়ে আছেন। একজন বললেন, দুই দিন পর আপনার
জ্ঞান ফিরলো।কেমন আছেন এখন?? আমি ইশারায়
বললাম, ভাল। তারপর একজন, চোখ বন্ধ করে বিশ্রাম
নিতে বললেন। এবং সবাই বেরিয়ে গেলেন। পাশের
বেডেই রোদেলা ঘুমাচ্ছিল। জানালা দিয়ে, আকাশটা
দেখতে চেষ্টা করছিলাম, আকাশটা মেঘলা ছিল।
বেলকনিতে গিয়ে আকাশটা দেখতে ইচ্ছে করছিলো
কিন্তু আমার হাতে স্যালাইন দেয়া ছিল। তাই বেডে
থেকেই আকাশটা দেখছিলাম। বেডের পাশেই আমার
ফোনটা রাখা ছিল, অনেক্ষন ধরে খুজতেছিলাম কিন্তু
মাত্র চোখে পরলো। ফোন হাতে নিয়ে দেখলাম, ১১ টা ৩৫
বাজে। নিচে তারিখটাও দেয়া, ১৩ এপ্রিল। ফোনটা
রেখে দিলাম। কেমন জানি, মাথাটা এখনও ঝিমঝিম
করছে। মেঘলা আকাশে যেন আমার জীবনের প্রতিচিত্র
দেখতে পাচ্ছি।
প্রায় ১০ বছর হয়ে গেছে। রায়ান নামের একটা ছেলের
সাথে সম্পর্কে জড়ায় আমি। আমরা সমবয়সী ছিলাম,
বন্ধুত্ব থেকে প্রেম। রায়ানকে অনেক বুঝিয়েছিলাম,
আমাদের মাঝে সম্পর্ক সম্ভব না। আমরা সমবয়সী।
আমাদের সম্পর্ক শেষ পরিনতি পাবে না। এটা তোর
আবেগ। কিন্তু রায়ান বলেছিল, এটা যদি আবেগই হয়, তবে
আমি এই আবেগটা নিয়েই সারাজীবন বাচতে চাই।
আমিও ভালবেসে ফেলেছিলাম, তাই হয়তো আমাদের
সম্পর্ক হয়েছিল। খুব ভালবাসতো আমায়। একসময় আমরা
দুজনেই সম্পর্ক টার হ্যাপি এন্ডিং এর জন্য মরিয়া হয়ে
গিয়েছিলাম। পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম কিন্তু
শেষ মুহূর্তে তা আর বাস্তবে রূপ পায় নাই। তখন আমাদের
সম্পর্কের বয়স এক বছর। আমার পাগলামির জন্য একটা সময়
আমার পরিবারও আমাদের সম্পর্ক টা মানতে বাধ্য
হয়েছিল। সম্পর্ক টা এগুতে থাকলো আর রায়ানের মাঝে
পরিবর্তন আসতে শুরু করলো। রায়ান ঢাকায় ভর্তি হল। এখন
আর আগের মতো যোগাযোগ হয় না। রায়ান ব্যাস্ত
থাকতো। আমাকে সময় দিতে বললে, রায়ান খুব বিরক্ত
হতো। আমি বুঝতাম। কিন্তু আমি চেয়েছিলাম সম্পর্ক টা
থাকুক। তখন একটা সময়, যখন প্রতি পদেই আমি নিজেকে
ছোট করেছি রায়ানের সামনে। সত্যি বলতে, ভাবতে
পারি নাই যে রায়ান সম্পর্ক টা শেষ করে দিতে পারে।
রায়ান আস্তে আস্তে আমার প্রতি বিরক্তি প্রকাশ
করতে শুরু করলো। এখন কল দিলে রায়ান কল ধরে না। আর
যদি কল ধরেও তাহলে আমাকে কিছু বলার সুযোগ না
দিয়েই বলে, বিরক্তি হই আমি। তুই বুঝছ না। হ্যা রায়ান
বলে, আমি তার কাছে প্যারা ছাড়া আর কিছুই না। আমি
তার ভুল। কিন্তু আমি তখনও ভাবতাম, রায়ান ফান
করতাছে। এটা কি করে সম্ভব?? রায়ান, আমাকে
ভালবাসে। কতটা ভালবাসে তা আমি জানি। কিন্তু না,
আমার চিন্তা ভাবনা, ভুল প্রমাণ করল রায়ান। আমি
রায়ানের আবেগ ছিলাম। রায়ানের জীবনে নতুন কেউ
আসছে, যে তার ভালবাসা। রায়ানের সাথে যোগাযোগ
করার সব চেষ্টাই করতাম, যদিও কল ধরতো আমার কান্না
শোনে বিরক্তি প্রকাশ করতো। আমি চেষ্টা করেছি,
আমাদের সম্পর্ক টা টিকিয়ে রাখতে কিন্তু রায়ান
আমায় ব্যর্থ করেছে। এখন রায়ান আর আমার কল ধরে না।
মনে হতো, রায়ান হয়তো একটু পরেই বলবে, ইরা আমি
তোরেই ভালবাসি। তুই আমার পৃথিবী। আমার জীবন তোর
মাঝেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু না, এমনটা হয় নাই। আমিও আর
বিরক্ত করি না, রায়ানকে। রায়ানও কখনও যোগাযোগ
করার চেষ্টা করে নাই আর। এভাবেই শেষ হয় আমার আর
রায়ানের সম্পর্কের। আস্তে আস্তে নিজের পৃথিবীতে
অভ্যস্থ হতে শুরু করলাম। নিজেকে সবার কাছ থেকে দূরে
সরিয়ে নিলাম। ছাত্রী হিসেবে খারাপ ছিলাম না, তাই
নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার নেশায় মেতে উঠলাম।
অনেককাল হয়ে গেছে, রায়ানরে বিরক্ত করি নাই।
রায়ানও যোগাযোগ করার কোনো চেষ্টা করে নাই। আর
কখনও কারো প্রেমে পরার সাহস পাই নি। আমি তখনও
ভাবতাম, রায়ান আসবে। আজ আমি প্রতিষ্ঠিত। একজন
নামকরা ডাঃ। আমি বিয়ে করিনি। কীভাবে করতাম??
রায়ানের আসার অপেক্ষায় ছিলাম তো। প্রায়, ৪ বছর
আগে শুনেছিলাম, রায়ান বিয়ে করেছে কিন্তু বিশ্বাস
হয় নাই। রায়ানের জন্য অপেক্ষা করা সহজ ছিল না
আমার জন্য। কিন্তু আমি অপেক্ষা করেছিলাম। ৩ বছর
আগে, রোদেলা আসে আমার জীবনে। রোদেলা অনাথ।
ওর বয়স তিন। রোদেলা জানে, আমি ওর মা। এই তিন
বছরে, আমার প্রতি টা হাসির কারণ ছিলো রোদেলা।
কিন্তু প্রতি রাতে, কান্না কারণ ছিলি তুই। কখনও কখনও
কাঁদতে কাঁদতে উন্মাদ হয়ে যেতাম। কিন্তু আমাকে নিয়ে
ভাবার সময় তোর ছিল না। কাল যখন চেম্বারে রোগী
দেখছিলাম, তখন সত্যিই তোর সাথে দেখা, অপ্রত্যাশিত
ছিল। আমাদের সম্পর্ক টা যখন শেষ হতে যাচ্ছিল, তখন
আমি বারবার চাইছিলাম, একবার দেখা করতে কিন্তু তুই
করিস নাই। পরশুদিন যখন, বুঝতেপারলাম তুই আমার রোগীর
স্বামী তখন কি করে আমি তোরে নিজের করে ভাবতাম??
তোর পরিচয়, জানার পর নিজেকে সামলাতে চেষ্টা
করেছি। একজন, প্রোফেশনাল ডাওএর মতো আচরণ করতে
চেষ্টা করেছি। পরশু হয়তো তুই ভাবিস নাই, তোর বউ এর
ডাঃ, তোর প্রাক্তন হবে। যখন, আমার দিকে
তাকিয়েছিলি তখন আমি বুঝতে পারছিলাম তোর চোখে
পানি। কিন্তু আমি?? আমি বুঝতে পারছিলাম না কিছু।
তোর আর তোর বউয়ের এখনও বাচ্চা হয় নাই। তোর বউ, তাই
আমার কাছে আসছে। তোর বউয়ের জন্য কিছু টেষ্ট
দিলাম। রিপোর্ট দিলেই বুঝতে পারবো, তুই বাবা হতে
পারবি কি না। তুই আর তোর বউ টেষ্ট করানোর জন্য,
আমার রোম থেকে বের হলি। আমি, পি এ কে বললাম,
মাত্র যে বের হলো উনি আমার পরিচিত, উনার টেষ্ট
আগে করাও। পি এ বলল, মেম আমও দেখছি। রায়ানের
বউয়ের রিপোর্ট আমার হাতে। রায়ানকে বললাম, রায়ান
সাহেব, খুব তাড়াতাড়ি বাবা হবেন আপনি ইনশাল্লাহ। ওর
বউকে ঠিকমতো ওষুধ খেতে বললাম। কথা গুলো বলার সময়,
কন্ঠ যেন স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছিল। এমন সময়, পি এ এসে বলল,
রোদেলা কাদছে। তাই পি এ কে, বললাম রোদেলা কে
নিয়ে আসো, আমি আর রোগী দেখবো না আর। আফটার
অল, আমি একজম ডাঃ। প্রোফেশনাল ভাবেই বিদায়
জানালাম, রায়ান ও তার বউকে। রায়ান একটা কথাও বলে
নাই। শুধু আমার দিকে তাকিয়ে কি যেন খুজতে চেষ্টা
করছিল। হয়তো সেই আগের ইরাকে। কিন্তু ইরা এখন
রোদেলার মা। একজন সিংগেল মাদার। তাই হয়তো,
আমার চোখে শুধু একফোটা জলই আসছিলো কিন্তু তা
প্রকাশ করার ক্ষমতা আমার ছিল না। তাই রোদেলা কে
কোলে নিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হলাম। একবারও
পিছনের দিকে তাকাই নাই। হুম একবারও না। কিছু দূর
যাওয়ার পরই, মাথায় কেমন যন্ত্রণা হতে লাগলো। তারপর
আর কিছু মনে নাই। আমি অজ্ঞান ছিলাম দুই দিন, আজ
একটু আগে জ্ঞান ফিরলো। বাস্তব টা আজ আমারর
সামনে। খুব ইচ্ছে ছিলো, রায়ানের বউ হবো। রায়ান আর
আমার সন্তান হবে, নাম হবে রোদেলা। রায়ান স্বপ্ন
ঠিকই দেখিয়েছিল কিন্তু বাস্তবায়িত করলো অন্য কারো
সাথে। আমি খুব সাধারণ ছিলাম, প্রতি পদেই আমি
বাস্তবতার সম্মুখীন হয়েছি। প্রতি পদেই বুঝেছি অপূ্র্ণতা
কি। আমি বুঝেছি, ভালবাসা কি। আমি বুঝেছি, অবহেলা
কাকে বলে। আমি দেখেছি, স্বপ্ন গুলো কতো যন্ত্রনার
হয়। আমি নিজের কান্না দিয়ে বুঝেছি, কান্না কতটা
অসহায়। আমি বুঝেছি, ইচ্ছাগুলো কীভাবে প্রাণ হারায়।
আমি বুঝেছি, মাঝরাতে কান্নার কোনো অর্থ নাই কারো
কারো জীবনে। কারো কারো জীবণে প্রাপ্তির কোনো
শেষ নাই। হয়তো কারো কারো জীবনে রোদেলাই হয়,
বেচে থাকার কেন্দ্র বিন্দু।।
রায়ানের মতো হাজারট রায়ান আছে হয়তো কিন্তু ইরা??
সব ইরায় শুধুমাত্র রোদেলাকে নিয়ে বাচতে পারে না।
সবাই জীবনযোদ্ধে জয়ী হতে পারে না। কিন্তু কিছু কিছু
রায়ান নিজের কাছেই হেরে যায়। আর ইরা নিজের
ভাগ্যের কাছে হেরেও নিজের কাছে জিতে যায়।
ইরাদেরও স্বপ্ন থাকে অনেক কিন্তু রায়ানরা তা পূরণ
করতে ব্যর্থ হয়। যা কখনও কারো কাম্য না।
হাজারো ইরা ভাল থাকুক তাদের পূর্ণতা এবং অপূর্ণতার স্বপ্ন নিয়ে।
-
লিখেছেনঃ আলভী আহমেদ।


SHARE THIS

Author:

Etiam at libero iaculis, mollis justo non, blandit augue. Vestibulum sit amet sodales est, a lacinia ex. Suspendisse vel enim sagittis, volutpat sem eget, condimentum sem.

0 Comments: